ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য৷ এর প্রতিবাদে অনশন করছেন আটক ৩০ জন আশ্রয়প্রার্থী৷ যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এই তথ্য জানিয়েছে৷ ‘ওয়ান ইন, ওয়ান আউট’ নামে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত একটি স্কিমের আওতায় ইংলিশ চ্যানেল পেরিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য৷ গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আটককেন্দ্রে থাকা আশ্রয়প্রার্থীদের একটি দল সোমবার অনশন শুরু করেছে৷ তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার কয়েকজনকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হবে৷
এই স্কিমের আওতায় এরইমধ্যে শতাধিক অভিবাসীকে জোর করে যুক্তরাজ্য থেকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান৷ এর বিনিময়ে অল্প সংখ্যক অভিবাসীকে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ দেয়া হয়েছে৷ ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে আশ্রয়প্রার্থীদের আগমন বন্ধে এই স্কিমটি চালু করেছে যুক্তরাজ্য সরকার৷
গার্ডিয়ান জানিয়েছে যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত দুইজন আবারো ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে এসেছেন৷ তাদের একজন ইরানি, যাকে দ্বিতীয়বারের ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ অন্যজন ইরিত্রিয়ান৷ তিনি এখন আটক কেন্দ্রে রয়েছেন৷ বৃহস্পতিবার যাদের ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে সেই তালিকায় তিনিও আছেন৷ অনশনকারীদের একজন গার্ডিয়ানকে বলেন, এই পরিস্থিতিতে তিনি ক্লান্ত ও হতাশ৷ ৮৩জনের সঙ্গে তিনি নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান৷ তাদের মধ্যে শুধু ১২ জনকে আটককেন্দ্রে রাখা হয়েছে৷ বাকিদের স্বাভাবিক আশ্রয়প্রক্রিয়ার সুযোগ দিয়ে হোটেলে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি৷ আরেকজন জানান ফ্রান্সে বা নিজের দেশে ফেরত যাওয়া তার জন্য নিরাপদ নয়৷ তৃতীয়জন বলেছেন, তাদের সঙ্গে অপরাধীর মতো আচরণ করা হয়, আর তাই তারা অনশনে যোগ দিয়েছেন৷
রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র গার্ডিয়ানকে বলেছেন, ফেরত পাঠানোর এই কার্যক্রম বিস্তৃত করা হচ্ছে৷ ‘যাদের থাকার অধিকার নেই তাদের অপসারণ করা হচ্ছে’ বলে উল্লেখ করেন তিনি৷ চলতি বছর ফেরত পাঠানোর এই সংখ্যা প্রায় অর্ধলাখ বলে জানান এই কর্মকর্তা৷ তিনি বলেন, ‘‘আটক ও অপসারণ যাতে মর্যাদাপূর্ণ হয় তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ৷’’
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে৷ আশ্রয়প্রার্থীদের সুরক্ষা কমানো, সামাজিক সহায়তা সীমিত করা এবং শরণার্থীদের স্থায়ী রেসিডেন্স পারমিটের আবেদনের জন্য অপেক্ষার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ২০ বছর করাসহ বিভিন্ন সংস্কার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে৷
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফ্রিকার কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করে বলেছে, ‘অবৈধ ও অপরাধী’ নাগরিকদের ফেরত না নিলে সেসব দেশের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে৷ আশ্রয়প্রার্থীর হার বেশি এমন দেশগুলোর নাগরিকদের বৈধপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা প্রদানে কঠোরতা আরোপ করা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে৷




Leave a Reply